হেলাল উদ্দিন (উখিয়া, কক্সবাজার)
কক্সবাজারের উখিয়ায় সরকারি বনভুমির পাহাড়ের মাটি যুক্ত লাল বালি দিয়ে চলছে সড়ক উন্নয়নের নামে লুটপাটের মহোৎসব। এসব উন্নয়ন প্রকল্প কাজ চলাকালে তদারকি সংস্থা এলজিইডি, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ও ঠিকাদারের নিয়োজিত সাইড প্রকৌশলীগণ দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা পরিলক্ষিত হয়নি।
উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী, (এলজিইডি) ও জাইকা প্রকল্পের আওতায় ৬ কোটি ৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে শীলের ছড়া বিরেন্দ্র খলিফার দোকান হইতে মাছকারিয়া ইসলামের বাড়ীর ১৫০৮ মিটার গ্রামীন সড়ক উন্নয়ন কাজ চলমান আছে।
স্থানীয়রা এলাকাবাসি জানান,শুরু থেকেই সড়ক উন্নয়ন কাজে চরম অনিয়ম চলছে। ঠিকাদার সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে ইচ্ছেমতো কাজ পরিচালনা করছেন। ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী। আমরা বারবার বলেছি যেন কাজের মান বজায় রাখা হয়। তারা আরো বলেন উপজেলা
প্রকৌশলী কর্মকর্তা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্টান তৌহিদ এন্ড ব্রাদার্সের আহমদ কবির চৌধুরী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে অনিয়ম ও দুর্ণীতির আশ্রয় নিয়ে সড়ক উন্নয়ন কাজে উন্নত মানের কালো বালি ব্যবহারের পরিবর্তে রাতের আধারে সরকারি বনভুমির পাহাড়ের মাটি যুক্ত লাল বালি দিয়ে সড়ক উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন হচ্ছে লোক দেখানো, পাহাড়ি মাঠি দিয়ে সড়ক নির্মাণ করলে সেই সড়কের স্থায়ীত্ব নিয়ে এলাকার লোকজন সংশয় প্রকাশ করেন এবং এই কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের উপকরণ ব্যবহার না করে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে, যার ফলে অল্প সময়েই সড়কটি আবার চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসি।
রোববার (২৩ নবেম্বর ) সরেজমিনে দেখা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তৌহিদ এন্ড ব্রাদার্সের সাইড ইন্জিনিয়ার সোহেল হোসেনের নেতৃত্বে, সড়কের দুই পাশে বক্স করে ভরাটে ব্যবহার করতেছে পাহাড়ি মাঠিযুক্ত লাল বালি। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান আমি টাকা দিয়ে কিনে নিচ্ছি। এই মাটি যুক্ত লাল বালি ব্যবহারের অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে অনুমতি নাই তবে বালি ভাল আছে বলে ব্যবহার করতেছিএবং সমস্যা আর ব্যবহার করবো না বলে জানান।
সড়কের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে ঠিকাদার কবির আহম্মদ চৌধুরীর কে একাধিক মুঠোফোনে কল করেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী ( এলজিডি), তৌহিদুল ইসলাম, সড়ক উন্নয়নে অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করেন এবং তদন্ত করে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
কক্সবাজার জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ( এলজিডি) মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেকের কাছে মুঠোফোনে সড়ক উন্নয়নে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একবার কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম এখন যদি আবার করে ঠিকাদারের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
Leave a Reply